আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্কঃ বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ১৩ দফা দাবিতে আজ বুধবার রাত ৯টার দিকে মিরপুরে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠকের সন্তোষজনক আলোচনা হওয়ায় আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় ক্রিকেটাররা। এর ফলে টাইগার ভারত সফর নিয়ে যে শঙ্কা ছিল তা কেটে গেল।
গত সোমবার ক্রিকেটাররা যখন আন্দোলন শুরু করেছিলেন তখন তাদের আন্দোলন ছিল ১১ দফা। কিন্তু আজ আবার তারা গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করে ১৩ দফা দাবি প্রকাশ করে। তবে, বিসিবি আগের ১১ দফার ৯ দফা মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ১২ ও ১৩ নম্বর দাবি নিয়ে আপাতত কোনো আলোচনা হয়নি। এগুলো নিয়ে পরে আলোচনা হবে।
কী ছিল ক্রিকেটারদের ১৩ দফা দাবিতে?
১. ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের পদত্যাগ করতে হবে। কেবল স্বার্থের সংঘাত বন্ধ করতেই এই পদত্যাগ করতে হবে। ক্রিকেটারদের কল্যাণের জন্য স্বাধনী একটি অ্যাসোসিয়েশন চালু করতে হবে। উল্লেখ্য, কোয়াবের দুই শীর্ষ ব্যক্তি বিসিবির পরিচালক। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট কোয়াবের নেতৃস্থানীয়রা।
২. ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের আয়োজন আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে। এখন যে পদ্ধতিতে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজিত হয়, তাতে আছে ‘খেলোয়াড় ড্রাফট’ ও ‘পেমেন্ট স্ল্যাব’। এতে করে ক্রিকেটাররা নিজেদের ইচ্ছামতো ক্লাব বেছে নিতে পারেন না। চাহিদা অনুযায়ী বাজার মূল্যও নির্ধারণ করার অধিকার রাখেন না।
৩. আগামী বিপিএলেও এই পদ্ধতি চালু করার কথা বলা হয়েছে। এতে খেলোয়াড়েরা নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি বা দল নিজেরাই বেছে নিতে পারবেন, বাজারদরও চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বিপিএলে বিদেশি ও দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে পারিশ্রমিকে বৈষম্য দূর করতে হবে। ক্রিকেটাররা বলেছেন, একটা স্বাধীন দেশে এই বৈষম্য অগ্রহণযোগ্য।
৪. প্রথম শ্রেণির ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ১ লাখ টাকা করা।
৫. পারিশ্রমিক বছর শেষে পুনর্মূল্যায়ন করা। প্রথম শ্রেণির দলগুলোর কোচিং স্টাফ সারা বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া। খেলোয়াড়েরা যেন সারা বছর অনুশীলন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা। প্রতিটি বিভাগে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
৬. বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ন্যূনতম ৩০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা।
৭. লোকাল স্টাফ, গ্রাউন্ডসম্যানদের পারিশ্রমিক বাড়ানো। দেশি কোচদের বেতন বাড়াতে হবে।
৮. লিস্ট ‘এ’, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো। বিপিএলের পাশাপাশি আরও একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট চালু করা।
৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের অপরিবর্তিত ক্যালেন্ডার নিশ্চিত করা। সারা বছর ক্রিকেটাররা খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি নির্দিষ্ট থাকলে সে অনুযায়ী পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় নিশ্চিত করতে পারেন তারা।
১০. খেলোয়াড়দের সব পাওয়া টাকা-পয়সা সময়মতো নিশ্চিত করা। বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো যেন খেলোয়াড়দের টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো টালবাহানা না করে সে ব্যবস্থা করা।
১১. একজন খেলোয়াড়কে দুইয়ের অধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার অনুমতি প্রদান। তবে এটা অবশ্যই জাতীয় দলের খেলা ও ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দিতে হবে।
১২. ক্রিকেট-ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। বিসিবির রাজস্বের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের ক্রিকেট আর কয়েক বছরের মধ্যে ক্রিকেট দুনিয়ার দ্বিতীয় বড় বাজার হতে যাচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নিশ্চিত করা।
১৩. নারী ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষ ক্রিকেটারদের সমান সম্মান ও তাদের পাওনা।